ইথারিয়াম কি? - ইথারিয়াম এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। ইথারিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত।

 ইথারিয়াম কি? 

(What is Ethareum) ক্রিপ্টোকারেন্সি রাজ্যের বাদশা যদি বিটকয়েন হয়, তবে রাণী হিসাবে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হচ্ছে ইথারিয়াম। 

মার্কেটক্যাপের দিক থেকে বিবেচনা করলে ৪১% মার্কেট শেয়ার নিয়ে বিটকয়েন প্রথম এবং প্রায় ২০% মার্কেট শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথারিয়াম


 ইথারিয়ামের যাত্রা শুরুর ইতিহাস: 

২০০৯ সালে বিটকয়েনের সূচনার পর আস্তে আস্তে বিটকয়েনের কিছু দূর্বলতা বা খারাপ দিক সামনে আসতে থাকে। 

যেমন: একটা ট্রানজেকশন সম্পন্ন করতে ১০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। বিটকয়েন মাইনিং পরিবেশবান্ধব নয় একই সাথে এর মাধ্যমে প্রচুর শক্তি ও অপচয় হয়। 

এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষে বিটকয়েনের পরে আরও কিছু ক্রিপ্টো টোকেনের জন্ম হয়। 

img
ইথারিয়াম কি?

যেগুলো Alt Coin নামে পারিচিত Alt Coin বলতে মূলত বুঝানো হয় বিটকয়েনের Alternative Coin. যেমন: প্রথম দিকের Alt Coin গুলোর মধ্যে রয়েছে লাইটকয়েন, মনেরো ইত্যাদি। যদি বর্তমানে ১৯ হাজারের চেয়েও বেশি কয়েন বা টোকেন বিদ্যমান ক্রিপ্টোস্পেসে। 

এরপর ২০১৩ সালে ভিটালিক বুটারিন নামে মাত্র ১৯ বছরের একজন রাশিয়ান এক কিশোর ক্রিপ্টোস্পেসে সম্পূর্ন নতুন একটি ধারণা নিয়ে আসে। যেটা ছিল স্মার্ট কন্ট্রাক্ট। 

অনেক পরিকল্পনা শেষে ভিটালিক ২০১৫ সালে নিয়ে ইথারিয়ামের আইসিও করেন। তখন একটা ইথারিয়ামের দাম ছিল ০.৩ ডলার।

 ইথেরিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত: 

ক্রিপ্টোকারেন্সির মত সম্ভাবনাময় একটি ইন্ডাস্ট্রিতে দ্বিতীয় অবস্থানে, অবশ্যই কোন না কোন বিশেষত্ব তো থাকবেই। 

নয়তো ০.৩ ডলার থেকে যাত্রা শুরু করে ৪০০০ ডলারের মাইলফলক অর্জন করে কিভাবে। তবে চলুন জানা যাক চেনা ইথারিয়ামের অচেনা গল্প। 

বিটকয়েন তো শুধু অর্থনেতিক ব্যাবস্থাকে ডিসেন্ট্রালাইজ করার চেষ্টা করেছিল। আর এদিকে ইথারিয়াম পুরা ইন্টারনেট জগৎ টাই ডিসেন্ট্রালাইজ করে দিচ্ছে। 

কয়েকটি বাস্তব উদাহরণের সাহায্যে বুঝা যাক। ইন্টারনেট আবিষ্কার হওয়ার আগে পৃথিবীতে ডাক যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিল। 

কাগজে কলমে চিঠি লিখা হতো এবং সেটা জমা করা হতো নিকটস্থ পোস্ট অফিসে সেখান থেকে সেটা কেউ একজন বহন করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দিত। 

ইন্টারনেট আবিষ্কৃত হওয়ার পর আসল ইমেইল। পৃথিবীর এক পাশে কিছু একটা লিখে সেন্ড করলে সাথে সাথে সেটা চলে যায় পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকা ব্যাক্তির কাছে। 

ইন্টারনেটের শুরুতেও কিছু সংখ্যক মানুষ এটাকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি মনে করলেও বেশিরভাগ মানুষ তখনও ইন্টারনেটকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখত। ইন্টারনেট নির্ভর যে কোন পণ্য বা সেবাকে তারা স্ক্যাম ভাবতো। 

কিন্তু এখন সেই ইন্টারনেট ছাড়ায় মানুষ এক ঘন্টা পার করতে পারে না। ঠিক তেমনি বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা ব্লকচেইন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের মত ক্রিপ্টোকারেন্সিও হতে চলছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

এবং তখন ইথারিয়াম হবে এই ব্লকচেইন জগতের বাদশা। আমি যদি আপনাকে বলি ইমেইল, ফেইসবুক, ইউটিউব, গুগল এসবের তুলনায় ইন্টারনেট কতগুন বড়? তবে আপনার উত্তর কি হবে? আপনি হয়ত বলবেন ইন্টারনেটের সাথে কিসের তুলনা। 

ইন্টারনেট তো পুরা একটা দুনিয়া। সবকিছু তো ইন্টারনেটের মধ্যেই। একই ভাবে ইথারিয়াম ও এমন একটি দুনিয়া যার ওপর হাজার হাজার ডিসেন্ট্রালাইজ অ্যাপ্লিকেশন তৈরী হচ্ছে।

 ইথারিয়াম কিভাবে কাজ করে: 

ইথারিয়াম হল বর্তমান ইন্টারনেটেরই আপগ্রেডেট ভার্সন। সোজা কথায় ইথারিয়াম হল ডিসেন্ট্রালাইজ ইন্টারনেট। 

সারা পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য কম্পিউটার মিলে এই নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে। আচ্ছা ভাবুন তো একবার, ইন্টারনেট বলতে আমরা কি বুঝি? মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েবসাইট আর অ্যাপলিকেশনের সমাহার তাই তো? ব্লকচেইন ও ঠিক তেমনই ডিসেন্ট্রালাইজ অ্যাপলিকেশনের। 

আর ইথারিয়াম ব্লকচেইন হচ্ছে সেই প্লাটফর্ম যেখানে আমরা চাইলেই Dapps বানাতে পারি। এবং Dapps বানাতে ফি দিতে হয় Eth টোকেনে। চলুন একটা উদাহরন দিয়ে বুঝা যাক। 

বর্তমান বিশ্বের মামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে টুইটার। টুইটার কতৃপক্ষ চাইলেই যেকোন ব্যাক্তির টুইটার একাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে। 

যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের টুইটার একাউন্ট ও তারা বাতিল করে। এটা হচ্ছে web2.o তবে ভবিষ্যতে আমরা যেই web3.o এর স্বপ্ন দেখছি সেটা হবে ডিসেন্ট্রালাইজ। 

অর্থাৎ ডিসেন্ট্রালাইজ টুইটারে টুইটারের মালিক চাইলেও কোন একাউন্ট নষ্ট করতে পারবে না। প্রশ্ন আসতে পারে যদি কোন নিয়ন্ত্রকই না থাকে তবে এমন একটি ডিসেন্ট্রালাইজ টুইটার চলবে কিভাবে? 

চাইলেই ইথারিয়াম নেটওয়ার্কে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট এর সাহায্যে তৈরী করা যাবে এমন যে কোন ডিসেন্ট্রালাইজ অ্যাপলিকেশন। এছাড়াও ইথারিয়াম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা ডিসেন্ট্রালাইজ ফাইন্যান্স পরিচালনা করতে পারি। 

যেমন আমরা জানি যে ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টেক করে ইন্টারেস্ট কামানো যায় মাঝখানে কোন ব্যাংক বা সেন্ট্রালাইজ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। 

বিলিয়ন ডলারের NFT কেনা বেচার মূল ভিত্তিই হল ইথারিয়াম নেটওয়ার্ক।

 উপসংহারঃ 

ইথারিয়ামের বহুমুখী ব্যাবহারের কারনেই বর্তমানে ইথারিয়ামের চাহিদা আকাশচুম্বী। তবে ব্যায়বহুল এবং ধীরগতির ট্রানজেকশন স্পীড বাধা হয়ে দাড়িয়েছে ইথারিয়ামের অগ্রযাত্রায়। 

ভবিষ্যতে ইথারিয়াম ২.০ আপডেটের পর আশা করা যায় যে, উক্ত সমস্যার সমাধান করে ইথারিয়াম পৌছে যাবে সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায়।

0 Comments